Sunday, February 12, 2017

Spring Season Present in Bangladesh (বসন্তকাল)-2017

……”পেরি উইংকেল মেলে দিল আজ ডানা
        বসন্তে আসে ফুলেরা জেগেছে
        মানা আর শুনিবে না
আজ পহেলা ফাল্গুন।বাংলায় বসন্তের আগমনআজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারেসুভাষ মুখোপাধ্যায় চমৎকার করে বলেছেন- ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। শ্রদ্ধেয় শিল্পী রুনা লায়লা কুরবানী বাংলা ছবিতে গানও গেয়েছেন-“ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ আমার বসন্ত। তবে ফুল ফুটেছে প্রচন্ড ভাবে।ফাগুনের আগুন লেগেছে শিমুলে-পলাশে, কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ায় চামেলী-রক্ত করবী পুষ্পেরা প্রস্ফটিত আপন মহিমায়প্রকৃতি সেজেছে নয়া সাজেও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালেলতা মঙ্গেশকারের গান শুনতে কার না ভাল লাগে?  শাহ আব্দুল করিমের বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে..সই গো, বসন্ত বাতাসে” গান শ্রবণে আজ প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কোকিল-কোয়েল-দোয়েল, পাপিয়া-ফিঙ্গে-শ্যামা, বক-বুলবুলি-বটের- মানিকজোড়-শালিক-ঘুঘু- মাতোয়ারা আজ বসন্ত বাতাসে
কবিগুরু রবী ঠাকুর লিখেছেন তার ফাল্গুন কবিতায়,
            “ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল
         ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল
 প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন,
        এলো বনান্তে পাগল
              বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে,চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।
    বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর
এই কবিতাটি একটি নজরুল সংগীতও বটে। শ্রদ্ধেয় ফেরদৌসী রহমান চমৎকার গেয়েছেন এ গানটি।
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী সাগর সেনের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত- আহা আজি বসন্তে এত ফুল ফুটে এত পাখি গায়” এবং মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে  গানটি দুটি বসন্তের জন্য রবী ঠাকুরের অমর সৃষ্টি।
শীত শেষে  বসন্তের সানাই বাজে শীতে খসে পরা  পত্র-পল্লবের  সজীবতায় প্রকৃতিতে আজ সাজ সাজ রব।যেন আজ  প্রকৃতির বাসর ঘর ঘনিয়ে আসছে।তাই আজ বক্ষ-লতা- ফুল-পাখি সবার হৃদয় আজ মুখরিত। তাইতো রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন,
বসন্তের রাতে, যেমন দেখি ...
সবিতা, মানুষ জন্ম আমরা পেয়েছি
মনে হয় কোন এক বসন্তের রাতে
 আবার গুণী কবি নির্মলেন্দু গুণ বসন্ত বন্দনা কবিতায়  লিখেছেন,
হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে,হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরেবনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখিতবুও ফুটেছে জবা,—দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক।

বসন্ত সবার জীবনে নেমে আসুক অনাবিল শান্তি-স্বস্তি এবং সমৃদ্ধি। সবার জীবন মধুময় হোক, ফুলে ফলে ভরে উঠুক প্রেমিক-প্রেমিকাদের দাম্পত্য জীবন। সেই শুভ কামণায় সবাইকে বসন্তের শুভেচ্ছা জানিয়ে যবনিকাপাত।


---- ডাঃ ফজলুর রহমান, সৌদি আরব।
Cell Phone:00966534580722
Email: frahmanapple@yahoo.com
Twitter: Fazlur Rahman@Frahmantwittman

Wednesday, February 1, 2017

Mark Elliot Zuckerberg (ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা “মার্ক জাকারবার্গ” )

মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ।বেশী পরিচিতি মার্ক জাকারবার্গনামে তিনি নিজে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সফটওয়্যার ডেভেলপারতিনি ফেসবুকের জনকতিনি নিজেই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেই সাথে প্রেসিডেন্ট।জাকারবার্গ জন্মগ্রহন করেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে মাসে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন নামক স্থানে পিতার নাম এডওয়ার্ড জাকারবার্গমাতা ক্যারেনপিতা-মাতা দুজনই ডাক্তার। মা মানসিক রোগের ও বাবা দাঁতের ডাক্তার।
সময়টা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাস জাকারবার্গ তখন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। সেই সময় বন্ধুদের সাথে নিয়ে তৈরী করেন ফেইসবুক সেই থেকে শুরু। চলছে তো চলছেই। সারা বিশ্বে প্রতি মাসে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১.৮০ বিলিয়ন। বর্তমানে জাকারবার্গের সম্পদের পরিমান পাঁচ বিলিয়ন ডলারের উপরে।
প্রথম দিকে হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু ইহা ব্যবহার করতোতখন নামটা ছিলো “The photo address book” ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ডকোমেন্টস,কন্টাক্ট নং,  এসব এখানে  লিখে রাখতো।অতপরঃ স্টুডেন্ট্রা এর নতুন নাম দিল “The Face Book” সব শেষে  The শব্দটা বাদ দিয়ে  নামটা হল Facebook.



Saturday, January 7, 2017

Life history of a Letter (একটি চিঠির আত্মকাহিনী)

আমি একটি চিঠিমানুষের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য অক্ষরের যে লিখন পদ্ধতি সেটা আমাকে ঘিরেএক সময়  চিঠি লিখা ছিল খুব জনপ্রিয়বন্ধু-বান্ধবী,মা-বাবা,অত্মীয় সজন সবার কাছে চিঠি আগে চিঠি আসতো আপনজনের কাছে বিভিন্ন সংবাদ প্রেরণে সকলেই আগে চিটি-পত্র লিখতোঅনেকে চমৎকার চমৎকার ভাষা ব্যবহার করতো চিঠিতেপ্রাণ জুড়িয়ে যেত সেসব চিঠি পড়ে আমার মুল্য অনেকবার্তা প্রেরণে আমার জুড়ি নেই। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে আমি ব্যবহৃত হই।  যে কোন প্রকার সংবাদ পৌঁছানো আমি ছাড়া মানুষের উপায় নেই। দেশে-বিদেশে সব জায়গায় আমার সমান পদচারণা।প্রিয়তমার কোমল হাতের  লেখাগুলিকে আমিই তুলে ধরি প্রেমিকের চোখের সামনে।প্রিয়াকে মুগ্ধ করতে রং-বেরঙের খামের পোশাক পড়িয়ে আমাকে পাঠানো হয়সেই চিঠির ভিতরে গোলাপের দুএকটি পাঁপড়ি দিতেও ভূল কোরতো না প্রেমিক-প্রেমিকারাঅনেকে নিজের আঙ্গুল কেটে রক্ত দিয়েও চিঠি লিখার প্রমাণ দিয়েছে আহ্‌! সেকি প্রেম! ভুলা যায় না অত সহজেঅন্যদিকে সন্তান পিতাকেপিতা-মাতা তাদের আদরের সন্তানকে স্নেহ ভালবাসা পৌঁছে দিতেও আমার সাহায্য নেয়বন্ধু লিখে বন্ধুকে মনের আবেগ ঢেলেকি শহরে বা অয পাড়াগাঁয়ে নয়তো প্রবাসে কোথায় আমি নই? প্রেমিক-প্রবর যখন লাল,বেগুনী,সবুজ রঙের কালিতে কালারিং প্যাডে আমাকে লিখে আমি তখন লজ্জায় লাল হই খানিকটা!আচলে মাথা গুঁজি, ঘুমটা টানি!! আর প্রাপক যখন সেই চিঠি যত্ন সহকারে পড়তে থাকে আমি মুগ্ধ হয়ে দেখিভাবি জীবনটা আমার সার্থক!! আমাকে এতটা মূল্যায়ন করে মানুষ?
কিন্তু আফসোস! আমার বিলাপ করতে ইচ্ছে করে। বড়ই দুঃখের ও বেদনার বিষয় যে,সবাই আমাকে আজ ভুলতে বসেছে। আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মনুষ্য প্রাণী। কেউ আর চিঠি লিখে না। আমার আজ কদর কম।সবাই আজকাল ইমেইল ব্যবহার করে।ফেসবুকে লিখে আমার কাজটা চুকিয়ে নেয়। এমতো কথা ছিল না? জব টা তো আমার! তাইনা? কেন এমন নির্মমতা? কি দূষ ছিল আমার? এটা অত্যন্ত পীড়া দায়ক। আমিতো সারা জীবন মানুষের কল্যাণেই লেগেছিলাম। তাহলে আমার উপর এই অবিচার কেন? কেনই বা মনুষ্যকুল আমাকে এভাবে ছুড়ে ফেলে দিল? এক জামানা ছিল প্রিয়তমা চিঠি লিখতে ভাষা খুঁজতে খুঁজতে ২/৩ দিন পার করে দিত।তারপর শেষ হত সেই পত্র লিখা।ধীরে ধীরে লিখনীর আড়ালে প্রিয়ার হাতের চুড়ির চুক-চিক”…আওয়াজ শুনতে পেতাম।আমি পুলকিত হতাম সেই আওয়াজে। আবার অনেক প্রেমিক কথার মালা কুড়িয়ে ভাষার তাজমহল গেঁথে লিখে ফেলতো ৫/৬ পৃষ্ঠার চিঠি১৯৮৪ সালে গোবিন্ধলের (লুৎফর রহমান মুক্কা) নামে এক পুরোনো বন্ধু তো প্রেমপত্র লিখে আমাকে বানিয়ে ফেলল ৭৩ পাতা।ভাষা থেকে ভাষান্তরে ভাসতে লাগলাম আমি। ক্লাসের সকল বন্ধুরা শোনে সেকি হৈ-হুল্লো্র!! আর আজকাল সবাই  সাদা-মাটা  ভাবে লিখে টুইটারে/FB তে ২/১ লাইন। বাস লেখা শেষ।প্রেমপত্র এখানেই পরি সমাপ্তিকেমন যেন শর্টকাট ভাব। এভাবে কি প্রেম হয়????  বন্ধু এডভোকেট খোরশেদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকা কালীন আমাকে প্রায়শঃ লিখতো।কি চমৎকার সেই চিঠি। কি ভাষার বুনন সেই লেখায়! সত্যি তা ভুলার নয়। অন্য দিকে আবার বিশ্বে পদার্পণ করেছে বেরসিক মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন। সারাদিন শুধু ম্যাসেজ আর ম্যাসেজ। আর হেডফোন লাগিয়ে চলে দিনের পর দিন কথা আর কথা।এ প্রযুক্তির যোগে দুনিয়ায় মুঠোফোন এসে আমার সর্বনাস করেছে।কেউ আর চিঠি লিখতে  উদ্বুদ্ধ হয় না।মেনে নিলাম মেইল করে,টুইট করে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়।কিন্তু সাদা কাগজে কালো অক্ষরে  প্রণয়ের ভাষা  সম্বলিত লেখা একটি চিঠি প্রিয়তমাকে যতটা আকৃষ্ট করতে পারে, যতটা বিকশিত করতে পারে ততটা কি একটি মেইল করতে পারে?? কখনো না। যদি কোন প্রেমিক ইচ্ছে করে যে, জরির কলমে জাফরানের কালি দিয়ে হীরের অক্ষরে স্বর্ণে পাতে এক চিঠি লিখে প্রিয়জনকে উপহার দিবে তাও দিতে পারবে। তাই বলে কি ইলেক্ট্রো মিডিয়ায় তা সম্ভব? কোন ভাবেই সম্ভব না।অতএব চিঠির গুরুত্ব সীমাহীন। আমাকে ভুলে গেলেও আমি অনেকটা অমর, চির যৌবণা। আমাকে লিখে ছাত্র-ছাত্রীগণ তাদের শব্দের বানান শিখতে পারে।ভাষা শিখতে পারে।ব্যাকরণ শিখতে পারে।হাতের লেখা সুন্দর করতে পারে।আমি কতটা উপকারী!!! আমাকে লিখে যখন পোষ্ট বক্সে পোষ্ট করে রানার আমাকে সযত্নে নিয়ে ছুটে চলে প্রাপকের অভিমুখে। তাইতো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আমাকে পেয়ার মহব্বত করে লিখেছিল,
----- রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘন্টা বাজছে রাতে 
       রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
 
       রানার চলেছে, রানার
!……
এছাড়াও আমাকে নিয়ে আরও অনেক তথ্য আছে আমাকে পোষ্ট করতে বা প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে সর্ব প্রথম ইংল্যান্ডে ১৫১৬ সনে রয়্যাল মেইলনামে প্রথম পোস্ট অফিস শুরু হয়পরবর্তিতে দ্বিতীয় চার্লস১৬৬০ খ্রীস্টাব্দে জেনারেল পোস্ট অফিস চালু করেনআর স্ট্যাম্পও চালু হয় প্রথম বিলেতেই ১৮৪০ সালে ডাকবাক্স  চালু হয় ১৮৫০ সালে আগে ঘোড়াগাড়ির  মাধ্যমে ডাক চালু করা হয়েছিল ১৭৮৪ সালে এবং  ১৮৩০ সালে ইনভেলাপের সূচনা হয় তারও বহু আগে আমাকে বিতরণের জন্য কবুতরকে পত্র বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হত কালিদাস পণ্ডিত তার মেঘদূত গ্রন্থে, প্রচীনকালে সংবাদ আদান-প্রদানে ও বার্তা পাঠাতে মৌসুমি মেঘ এবং বাতাসকে দূত হিসেবে ব্যবহার করার কল্পকাহিনী লিখেছেন ভারতবর্ষে  সর্ব প্রথম ডাক চালু  হয় ১৭৭৪ সালে এবং ভারতের সিন্ধু প্রদেশে প্রথম ডাক টিকেট চালু  হয় ১৮৫২ সালে এরও বহু আগে ১২০৬  দিল্লির প্রথম সুলতান কুতুবউদ্দিন  ডাক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন বলে জানা যায় কুতুবউদ্দিন দিল্লি থেকে বাংলা পর্যন্ত ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। 
বৃটিশ ভারত-পাকিস্তান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের ইতিহাস  প্রায় ১৫০ বছরের জিপিও ভবনের তৃতীয় তলায় ঢাকা জেনারেল ডাকঘরনামে একটি জাদুঘরও আছেবিশ্ব ডাক সংস্থার সদস্য ১৯১ টি দেশের ডাকটিকিটের প্রদর্শনী আছে এখানে প্রতিবছর ৯ অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব ডাক দিবস। সবই কেবল এই অধমের জন্য কিন্তু বাংলার মানুষ আমাকে ভুলে গেলেও আমি থাকবো চির স্মণীয়-বরণীয় হয়ে এই বিশ্ব ব্রম্মান্ডে

Fazlur Rahman

0534580722|0562998047|
Email:frahmanapple@yahoo.com|
Twitter:@Frahmantwittman|
Skype:frahman67